সরকার অবশেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক পদে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব আলাউদ্দিন আলীর নিয়োগ বাতিল করেছে। গত ৬ এপ্রিল কালের কণ্ঠ-এ ‘বড় নিয়োগ আসছে ফায়ার সার্ভিসে, তৎপর সিন্ডিকেট!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর-এ মোট ১৯৭টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে স্টেশন অফিসার, গাড়িচালক ও ফায়ার ফাইটার পদে ১১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেন-কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বদলি করা হয় এবং তার স্থলে আলাউদ্দিন আলীকে আনা হয়।
তবে আলাউদ্দিন আলীর অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তিনি ২০২১ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন-এ চলমান রয়েছে।
গত ২ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আলাউদ্দিন আলীকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক পদে বদলির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু বিতর্ক ও চলমান মামলার কারণে সরকার শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ফায়ার সার্ভিসে এই বড় নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বেশি সতর্ক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে কোনো বড় নিয়োগে স্বচ্ছতা ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সকল পদে নিয়োগের সময় অনিয়ম এড়াতে কঠোর নজরদারি চলবে।
ফলে আলাউদ্দিন আলীর বদলি স্থগিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ প্রক্রিয়া সামনে এগোতে থাকবে। তবে এর আগে উদ্ভূত বিতর্ক ও মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের কাছে এখন অগ্রাধিকার।
ফায়ার সার্ভিসে এই নিয়োগ বাতিলের ঘটনা প্রশাসনিক সতর্কতার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।