মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা ভারতীয় কনডম বাজারে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা ভারতীয় কনডম বাজারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা ভারতীয় কনডম বাজারে ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি অনুভূত হচ্ছে ভারতের ভোক্তা পণ্যের বাজারে। বিশেষ করে কনডম উৎপাদন শিল্পে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক চাপ, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই শিল্প বর্তমানে কাঁচামাল সংকট, পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যার মুখোমুখি।

ভারত বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে, যা দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করা হয়। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেড। এর মধ্যে শুধু এইচএলএল লাইফকেয়ারই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠান সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

কনডম উৎপাদনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপর নির্ভর করতে হয়, যার মধ্যে সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়া উল্লেখযোগ্য। সিলিকন অয়েল মূলত লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পণ্যের মান ও ব্যবহারযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে এই উপাদানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদনকারীরা পর্যাপ্ত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছেন না, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্যাকেজিং উপকরণের দাম বৃদ্ধি। পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ বিভিন্ন প্যাকেজিং উপাদানের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দামের ওঠানামা উৎপাদন পরিকল্পনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনডম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন—প্যাকেজিং সামগ্রীর ঘাটতি এবং সরবরাহ সংকট উৎপাদন ও ক্রয়াদেশ পূরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে পরিবহন খাতের সমস্যা। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই দেরি হচ্ছে। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে কনডমের মতো পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই খাতে ‘বেশি বিক্রি, কম মুনাফা’ নীতিতে ব্যবসা পরিচালিত হয়, যাতে পণ্যটি সবার নাগালে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মডেল মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। উৎপাদন খরচ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছে।

এদিকে সরকারের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে কাঁচামালের সরবরাহ আরও সংকুচিত হবে এবং উৎপাদন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা শিল্পে। যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে কনডমের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শিক্ষক থেকে রাজনীতিক—ঠাকুরগাঁওয়ে ‘স্যার’ মির্জা ফখরুলের ব্যস

শিক্ষক থেকে রাজনীতিক—ঠাকুরগাঁওয়ে ‘স্যার’ মির্জা ফখরুলের ব্যস