নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়: রিজভী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়: রিজভী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 2, 2026 ইং
নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়: রিজভী ছবির ক্যাপশন:

সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা না থাকলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, লুটপাট এবং অস্থিরতা তৈরি হয়, যা দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর North South University Auditorium-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। যদি প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব থাকে, তাহলে তা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা শুধু নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ফল নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময়ের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষ বারবার নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের নিজস্ব লড়াই, যেখানে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এই যুদ্ধকে অন্যভাবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইতিহাস বিকৃতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার অবদানকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখানোর প্রবণতা জাতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি মনে করেন, ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হলে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন কমবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। তার মতে, তরুণরা এখন ধীরে ধীরে সত্য উপলব্ধি করছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিক।

স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জন করলেই একটি দেশ পূর্ণ স্বাধীন হয় না। নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয় না।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে মূল্যায়ন করা হলে রাষ্ট্রে বিভাজন বাড়ে এবং গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রশাসনে মেধা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সুশাসনের অভাব হলে রাষ্ট্রে দুর্নীতি বাড়ে, জনগণের সম্পদ লুটপাট হয় এবং তা বিদেশে পাচার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, প্রশাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গুচ্ছভুক্ত হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, ফের আবেদন সুযোগ

গুচ্ছভুক্ত হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, ফের আবেদন সুযোগ