দেশে জ্বালানি খাতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়ানোর পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামেও বড় ধরনের বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম অনুযায়ী, মূসকসহ প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে গত ২ মার্চ অটোগ্যাসের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভোক্তা পর্যায়ে দাম সামান্য কমিয়ে ৩ পয়সা হ্রাস করে প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এবার বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
শুধু অটোগ্যাস নয়, এলপিজির দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে রান্নার গ্যাস ও যানবাহনের জ্বালানি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। আর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কিছুদিন স্থিতিশীল ছিল। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে সেই স্থিতিশীলতা ভেঙে গেছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে। ফলে সময়ে সময়েই সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে এত বড় মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অটোগ্যাস মূলত সিএনজি চালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং অনেক গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে পণ্যের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে রান্নার খরচও বেড়ে যাবে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি খাতের এই মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, এপ্রিল মাসের শুরুতেই অটোগ্যাস ও এলপিজির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেশের ভোক্তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতে আরও সমন্বয় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক