আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্থিক বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বাড়তি ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়ে UEFA-এর মাধ্যমে FIFA-র কাছে তদবির করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে দলগুলোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণের ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
বিশ্বকাপ থেকে বিপুল পরিমাণ আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেই অর্থ বণ্টন নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন আসর থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এই বিশাল আয়ের কতটা অংশ অংশগ্রহণকারী দলগুলো পাবে, তা এখনো পরিষ্কারভাবে জানায়নি ফিফা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি সদস্য দেশ তাদের উদ্বেগ তুলে ধরে উয়েফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে সংস্থাটি ফিফার সঙ্গে আলোচনায় তাদের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করে। তাদের মূল দাবি, প্রাইজ মানি বাড়ানো এবং অংশগ্রহণ ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
দলগুলোর মতে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ছে। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, ট্রেনিং, যাতায়াত, আবাসন এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয় মিলিয়ে মোট খরচ অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শুধুমাত্র প্রাইজ মানির ওপর নির্ভর করে এই ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে। তবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আর্থিক প্রাপ্তি কত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এতে দলগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে কিছু প্রাথমিক কাঠামো ইতোমধ্যে জানা গেছে। প্রতিটি দলকে প্রস্তুতি ব্যয় হিসেবে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০ সদস্যের একটি দলের জন্য খাবার, যাতায়াত ও আবাসনের খরচ মেটাতে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আসন্ন এই বিশ্বকাপটি যৌথভাবে আয়োজন করছে United States, Canada এবং Mexico। টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে দুটি ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর খেলা গড়াবে কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে।
৪৮ দলের এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নতুন ফরম্যাটে আয়োজিত এই বিশ্বকাপকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি আর্থিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা তীব্র হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের বিপুল আয় সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ব্যয় নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা এই দাবির প্রেক্ষিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রাইজ মানি ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।
কসমিক ডেস্ক