ইহরামে সেলাই করা লুঙ্গি—জায়েজ নাকি নিষিদ্ধ? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইহরামে সেলাই করা লুঙ্গি—জায়েজ নাকি নিষিদ্ধ?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 1, 2026 ইং
ইহরামে সেলাই করা লুঙ্গি—জায়েজ নাকি নিষিদ্ধ? ছবির ক্যাপশন:

হজ ও উমরাহ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যেখানে প্রতিটি কাজ নির্ধারিত হয় কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী। এই ইবাদতের শুরুতেই মুসলমানরা ‘ইহরাম’ অবস্থায় প্রবেশ করেন, যা শুধু পোশাক নয়, বরং আত্মসংযম ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের প্রতীক।

ইহরামের সময় কী ধরনের পোশাক পরা যাবে—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রচলিত পোশাক ‘লুঙ্গি’ নিয়ে প্রশ্ন বেশি উঠে—ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা লুঙ্গি পরা কি বৈধ?

এ বিষয়ে বিশিষ্ট আলেম মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামদের আমল থেকে প্রমাণিত যে, ইহরামের সময় সেলাইবিহীন কাপড়—যেমন লুঙ্গি ও চাদর—পরিধান করা উত্তম।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যদি কেউ সেলাইবিহীন লুঙ্গি পরতে অভ্যস্ত না হন বা এতে সতর (শরীরের আবৃত অংশ) খোলা থাকার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেলাই করা লুঙ্গি পরা জায়েজ। এতে কোনো জরিমানা বা ‘দম’ ওয়াজিব হবে না।

ইসলামি শরিয়তে মূল নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন পোশাকের ক্ষেত্রে, যা শরীরের মাপে তৈরি করা হয়। যেমন—পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট বা অন্যান্য ফিটিং কাপড়। এসব পোশাক ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ।

হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। সহিহ বুখারি-এর একটি হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহরাম অবস্থায় জামা, পায়জামা, পাগড়ি ও টুপি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন (বুখারি: ১৮৩৮)।

আরেক হাদিসে এসেছে, সাহাবিরা ইহরামের সময় লুঙ্গি ও চাদর পরে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন এবং এ ধরনের পোশাক পরিধানে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না (বুখারি: ১৫৪৫)।

প্রখ্যাত আলেম ইমাম আশরাফ আলি থানবি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, ইহরামের কাপড়ে কোনো ধরনের সেলাই থাকলেই তা নিষিদ্ধ। আসলে নিষিদ্ধ হলো সেই সেলাই, যা কাপড়কে শরীরের আকৃতিতে পরিণত করে।

অর্থাৎ, যদি কোনো কাপড় শরীরের মাপে তৈরি না হয়—যেমন লুঙ্গি বা চাদর—তাহলে তাতে সেলাই থাকলেও তা পরিধান করা বৈধ।

তবে শরীরের মাপে সেলাই করা পোশাক ইহরাম অবস্থায় দীর্ঘ সময় (প্রায় ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি) পরিধান করলে ‘দম’ বা জরিমানা আদায় করতে হয়।

সবশেষে বলা যায়, ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো সরলতা ও সংযম বজায় রাখা। তাই বিভ্রান্তি এড়িয়ে শরিয়তের সঠিক জ্ঞান অনুযায়ী ইবাদত পালন করাই উত্তম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থপাচারের বড় অংশই ছিল ব্যাংক ডাকাতি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অর্থপাচারের বড় অংশই ছিল ব্যাংক ডাকাতি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা