সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, আর্তমানবতার সেবায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা সমাজের সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান কেবল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই নয়, বরং একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বিভিন্ন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব-এ ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়।
মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেও তারেক রহমান মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েও তার নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি মনে করেন, এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে সমাজে প্রভাব ফেলছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন উপকারভোগীর হাতে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত থেকে শহীদ জামালের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জপেল চাকমার হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং তার পড়াশোনার জন্য মাসিক শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেন।
এছাড়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্জিয়া আক্তার মাইশার চিকিৎসার জন্যও সহায়তা প্রদান করা হয়। আয়োজক সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল কাশেম, সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন এবং সদস্য মাসুদ রানা লিটনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এই আয়োজনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অসহায়, রোগাক্রান্ত এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
মীর হেলাল তার বক্তব্যে আরও বলেন, সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হলে নেতৃত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, এই অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানটি শুধু সহায়তা বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক