নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন কার্যত তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল থেকে শুরু করে কৃষি ও পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও অল্প পরিমাণ জ্বালানি এলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তা সংগ্রহ করতে পারছেন না গ্রাহকরা। অনেকেই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন।
অন্যদিকে, পাম্পে জ্বালানির সংকট থাকলেও হাটবাজারের খুচরা দোকানগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে জ্বালানি সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনছেন।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সেচ না পেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। তেলের অভাবে যান চলাচল কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন করে জ্বালানি না আসায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে জ্বালানি বিক্রি করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
কসমিক ডেস্ক