দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে পড়ে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন চাপা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও অস্থিতিশীল ভূখণ্ড এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পেংশুই কাউন্টির মেয়র রেন শুজিয়াং বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরের আকার ছিল প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার।
তিনি সতর্ক করে বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবেও পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনে পাহাড়ের চূড়া ও ঢালের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পাথরের স্তূপ শনাক্ত হয়েছে।
আরও দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ৮০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড় ধস নামার আগে পাহাড় থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়ছিল এবং অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এসব লক্ষণ দেখে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলাকালীনই বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন এবং জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধসে পাহাড়ের বিশাল পাথরের খণ্ড নিচের একটি জলপথে গিয়ে পড়েছে। আশপাশের কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলো পুরোপুরি ধসে পড়েনি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি উজিয়াং নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, যার মধ্যে তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা এবং জরুরি পারিবারিক সহায়তা কিট রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক