যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শনিবার (২১ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, সহিংসতা ও সংকট নিরসনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে নিপীড়িত মুসলমানদের রক্ষায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঈদের এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ও খুতবা শেষে তিনি দীর্ঘ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে বিশ্বশান্তি, মুসলিম ঐক্য এবং চলমান বিভিন্ন সংঘাত থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। বিশেষভাবে ইরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
এবারের আয়োজনটি ছিল দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের উপস্থিতিকে ঘিরে পুরো এলাকা জুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নামাজ শেষে তারা সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও সকাল থেকে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।
ঈদের নামাজ ও মোনাজাত শেষে রাজধানীসহ সারাদেশে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করেন। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের আমেজ, যেখানে প্রধান বার্তা ছিল শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্য।
কসমিক ডেস্ক