মোশাররফের দুই সন্তানের সব খরচ বহন করবে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মোশাররফের দুই সন্তানের সব খরচ বহন করবে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 20, 2026 ইং
মোশাররফের দুই সন্তানের সব খরচ বহন করবে সরকার ছবির ক্যাপশন:

সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মোশাররফ হোসেনের দুই সন্তানের শিক্ষা ব্যয় সরকার বহন করবে। শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোশাররফের মরদেহ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশে সরকার থাকবে।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় মিসাইল হামলায় নিহত হন মোশাররফ হোসেন। তার মরদেহ শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেখানে তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান এবং সরকারি সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে সরকার শোকাহত। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে বিমানবন্দরে গিয়েছেন। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার শুধু সমবেদনা জানিয়ে থেমে থাকবে না; মোশাররফের পরিবারকে বাস্তব সহায়তাও দেবে। বিশেষ করে তার দুই ছেলের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব ধরনের ব্যয় সরকার বহন করবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। এই বক্তব্য নিহত প্রবাসীর পরিবারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ৯ মার্চ প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জানা যায়, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন প্রায় আট বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তান। বড় ছেলে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে এবং ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটির প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন মোশাররফ। ঘটনার দিন সকালে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি ঈদের জন্য টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন এবং সন্তানদের জন্য কিছু কিনে দেওয়ারও অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেদিনই ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন।

মোশাররফের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর ঘটনা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কীভাবে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তারও একটি নির্মম উদাহরণ। বিদেশে কর্মরত বহু বাংলাদেশি শ্রমিক যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার সরাসরি অংশ না হয়েও প্রাণহানির শিকার হতে পারেন—এই বাস্তবতা নতুন করে সামনে এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষত সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও জানিয়েছেন, যুদ্ধাবস্থার মধ্যে থাকা দেশগুলোতে বাংলাদেশের মিশন ও দূতাবাসগুলো সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার-সমর্থিত বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে। এতে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বাংলাদেশ সরকার কেবল তাৎক্ষণিক শোকপ্রকাশ বা ক্ষতিপূরণের কথাই বলছে না, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসন নিয়েও পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কতজনকে ফেরানো হবে বা কী প্রক্রিয়ায় তা চলবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত সংখ্যা দেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে, সৌদিতে নিহত প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর সরকারের এই ঘোষণা মানবিক ও নীতিগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা মিলেছে, অন্যদিকে বিদেশে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত সহায়তা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য প্রবাসীদের সুরক্ষায় সরকার কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বগুড়ার সাত আসনে বড় জয়ের লক্ষ্য বিএনপির: তারেক রহমান

বগুড়ার সাত আসনে বড় জয়ের লক্ষ্য বিএনপির: তারেক রহমান