মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই বিকল্প পথ খুঁজে তুরস্কের সেহান বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে ইরাক।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইরাক সরকার ঘোষণা করেছে, তারা প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল সেহান বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করছে।
ওপেক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইরাকের অর্থনীতির বড় অংশই তেল নির্ভর। দেশটির বাজেট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ইরাকের তেল রপ্তানি বড় ধরনের চাপে পড়ে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি মূলত দক্ষিণাঞ্চলের বসরা অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে রপ্তানি করত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথ সীমিত হয়ে পড়ায় ইরাক বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত নর্থ অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, কিরকুক অঞ্চলের তেল সেহান বন্দরে পাঠানোর জন্য সারলো পাম্পিং স্টেশন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর সক্ষমতা প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।
এই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে। কুর্দিস্তান অঞ্চলের পাইপলাইন ব্যবহার করেই তেল তুরস্কের সেহান বন্দরে পৌঁছানো হচ্ছে।
কুর্দি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে সারলো তেল স্টেশন চালু করা হয় এবং এরপর থেকেই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে এই সমঝোতার আগে কুর্দিস্তান প্রশাসন পাইপলাইন ব্যবহারের জন্য কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সেই শর্তগুলো মেনে নিয়ে ইরাক এই রপ্তানি কার্যক্রম চালু করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের বিকল্প পথে তেল রপ্তানি শুরু বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল গানি জানিয়েছেন, কিছু তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের সুযোগ তৈরি করতে তারা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও আগের রুট ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, হরমুজ সংকটের মধ্যে ইরাকের এই উদ্যোগ শুধু তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কসমিক ডেস্ক