সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি সম্পর্কের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের ভালুকায় দেখা করতে গিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পাঁচগাঁও এলাকার আশু মিয়ার ছেলে মো. হোসাইন (২১), আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. শহীদের ছেলে মো. আরিফ (১৭) এবং মঞ্জুরুল হকের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানোর পর গত প্রায় ১০ বছর ধরে সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছে সে।
দুই মাস আগে সৎ মায়ের নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসে কিশোরীটি। সেখানে শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করছিল।
এই সময়ের মধ্যে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ছয় মাস ধরে এই যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ওই ফেসবুক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে কিশোরীটি ময়মনসিংহ থেকে বাসে করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখানে একজন ব্যক্তি তাকে রিসিভ করে সিএনজিতে তুলে নেয় এবং পাঁচগাঁওয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
পথিমধ্যে কিশোরীর সন্দেহ হলে সে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে জোরপূর্বক তাকে একটি নির্জন স্থানে—পাঁচগাঁও খালের পাশে—নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত আরও তিনজনসহ মোট চারজন মিলে রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে খালের পাড়ে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর ময়মনসিংহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
এরপর ডিবি ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে।
এই ঘটনা আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ঝুঁকি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক