পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর সেখানেই বসবাস শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, এই উপলক্ষে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না। মূলত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা এবং অন্যান্য ছোটখাটো সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
এর আগে গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যগত সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা বা আগারগাঁওয়ে নতুন বাসভবন নির্ধারণের চিন্তা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনকেই সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। তবে যমুনা থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি আরও সুবিধাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, যমুনার ভেতরের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দেয়ালে রং করা, হাইজিনিক ওয়াশের ব্যবস্থা এবং সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশ মেরামত করা।
তিনি আরও জানান, বড় ধরনের কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই এবং চলমান কাজগুলো আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এরই মধ্যে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে দুই দফা ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, যা ভবনটির ব্যবহারের প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনটি প্রশাসনিক দিক থেকে সুবিধাজনক এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও উপযোগী হওয়ায় এটি প্রধানমন্ত্রীর আবাসন হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, ঈদকে সামনে রেখে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন নতুনভাবে প্রস্তুত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক