পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছে Dhaka South City Corporation।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে এই অনুদান হস্তান্তর করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা Md. Abdus Salam।
ঈদকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এই অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগর ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।
অনুদান বিতরণকালে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিয়েছেন, তেমনি তাদেরও দায়িত্ব শহরকে পরিষ্কার ও সবুজ রাখা।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যেও ঈদ অনুদান বিতরণ করা হয়।
ডিএসসিসির আওতাধীন মোট ১ হাজার ৮৭০ জন ইমামকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা এবং সমসংখ্যক মুয়াজ্জিনকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। এতে মোট ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
এই অনুদান ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশে প্রশাসক বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মশা নিধনে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধর্মীয় নেতারা জনগণকে সচেতন করতে এগিয়ে আসবেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়তে সহায়তা করবেন।
অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদ উপলক্ষে এই ধরনের সহায়তা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এবং তাদের কর্মপ্রেরণা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সার্বিকভাবে, এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক