দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি কার্যক্রমেও।
এ পরিস্থিতির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা আশা করছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কেজিডিসিএলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে কাচ, ইস্পাত, বস্ত্রকল, তৈরি পোশাক, সিরামিক, বিস্কুট, কেক এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে আর্থিক লোকসানও বাড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইসহ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাজারমূল্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে শিল্প খাতে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
কসমিক ডেস্ক