মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক প্রচারণা, ভুয়া তথ্য এবং সরাসরি হুমকির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক রোহিঙ্গা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে নুরের মতো অসংখ্য শিশু এখন স্কুলবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
১২ বছর বয়সী নুর গত জুন মাস থেকে আর স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধরের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরিবার তার পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই ধরনের ঘটনা এখন বিচ্ছিন্ন নয়; বরং অনেক শিশুই একই ধরনের ভয়, হয়রানি ও অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী ঘৃণামূলক প্রচারণা বেড়ে যাওয়ার পর অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো এসব পোস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানিও দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে তাদের সন্তানরা সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারে না এবং তারা বেসরকারি বা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের শিক্ষার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে অল্পবয়সে বিয়ে, শিশুশ্রম বা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অনলাইন ঘৃণামূলক প্রচারণা শুধু ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—এর বাস্তব প্রভাব পড়ছে হাজারো রোহিঙ্গা শিশুর জীবনে, যেখানে তাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার অধিকার হারিয়ে ফেলা।
কসমিক ডেস্ক