কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি আলোচিত ট্রিপল মার্ডার ঘটনায়। পুলিশ দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে সন্দেহভাজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জে কেনেথ (২৫) দীর্ঘ ছয় মাস গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করেছিলেন এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কেনেথ সরাসরি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন না করে বিভিন্ন কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে এআইয়ের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি মানুষের ক্ষতি করা, অপরাধের পর প্রমাণ গোপন করা এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে চলার মতো বিষয় নিয়ে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন।
হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) সাইদুলু আদাবাত জানিয়েছেন, কেনেথ হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাউড কিচেন স্থাপনের কথা বলে তিনি একটি লোহার চুল্লি তৈরি করেছিলেন, যা পরে মরদেহ গোপন করার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত কেনেথ একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি শ্বেতা নামের আরেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক সংকট এবং বিপুল ঋণের চাপ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।
গত ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া তাদের ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে কেনেথ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকেই হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপন করার আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় এবং কেনেথ ও শ্বেতা পালিয়ে যান। পরে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যার সময় শ্বেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তবে পুলিশ এখনো কেনেথ ও এআই চ্যাটবটের কথোপকথনের সরাসরি কোনো স্ক্রিনশট পায়নি। এ কারণে সার্চ হিস্ট্রি ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের জন্য গুগলের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর অপব্যবহার অপরাধীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক