ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন ভঙ্গ করেন।
অনশন ভাঙার সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনশন প্রত্যাহারের পর উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসার কামনা করেন।
অনশন ভাঙার পর সোনম ওয়াংচুক বলেন, দেশে কোনোভাবেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ুক, তিনি তা চান না। দীর্ঘ আলোচনার পর সরকারের কাছ থেকে কিছু আশ্বাস ও শর্তের ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, এসব শর্তের বিস্তারিত খুব শিগগিরই একটি পৃথক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।
একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় সম্ভব।
তবে সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও আন্দোলনের কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ওয়াংচুকের এই আত্মত্যাগের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।
কসমিক ডেস্ক