অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এক কাপ কফি। কফিপ্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে পরিমিত ব্ল্যাক কফি পান হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। American Heart Association-এর সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন—অর্থাৎ প্রায় ৩ থেকে ৫ কাপ ব্ল্যাক কফি—নিরাপদ।
গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত পরিমিত কফি পান হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
তবে এই উপকারিতা মূলত ব্ল্যাক কফির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা বেশি দুধ মেশানো কফি শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ করে এবং কফির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কিছু গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টির ব্যবহারের সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এনার্জি ড্রিংকস বা ক্যাফেইন শট সাধারণ কফির মতো নিরাপদ নয়। এসব পানীয়তে তুলনামূলক কম তরলে বেশি পরিমাণ ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ২ থেকে ৪ কাপ কফি পান করেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম। তবে নিয়মিত ৪–৫ কাপের বেশি কফি পান করলে কিছু ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই কফি পান করার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কফি তৈরির পদ্ধতিও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। পেপার-ফিল্টার করা কফি বা ইনস্ট্যান্ট কফি তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ এতে ক্যাফেস্টল নামের একটি উপাদান কম থাকে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ প্রেস বা তুর্কি কফিতে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে।
তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব একরকম নয়। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, লিভারের কার্যকারিতা, ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, ঘুমের সমস্যা বা গর্ভাবস্থা রয়েছে, তাদের কফি পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, পরিমিত ব্ল্যাক কফি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, তবে এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক