ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজ্য সরকার জানায়, উদ্ধার অভিযানে আরও সাতটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।
গত সোমবার সামারদুং গ্রামের তিস্তা নদীর ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি)-এর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে উদ্ধারকারীরা প্রথমে ১৩ জন এবং পরে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানের পর নিহতের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, টানেলের ভেতরে শিলার ফাঁকে জমে থাকা বা সেখান থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই টানেলজুড়ে ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এনএইচপিসির ২৫ জন কর্মী ও কর্মকর্তা ভেতরে আটকা পড়েন।
সিকিম রাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, দীর্ঘ সময় ধরে টানেলের ভেতরে আটকে থাকায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানেলের ভেতরে জমে থাকা কাদা, পানি এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিক। এসব কারণে উদ্ধারকর্মীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি হওয়ায় অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এনএইচপিসি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেক কর্মীর পরিবারকে ৫ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ৫ হাজার ১৭৮ মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
কসমিক ডেস্ক