২০২৬ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। তবে শিরোপা জিততে না পারলেও নিজ দেশে বীরের সম্মানেই বরণ করা হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। রাজধানী বুয়েনস এইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্র পর্যন্ত হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
সোমবার নিউইয়র্ক থেকে যাত্রা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় দলের প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দরে অবতরণের পর রানওয়েতেই গ্রেনাডিয়ার রেজিমেন্ট ঐতিহ্যবাহী ‘মুচাচোস’ (Muchachos) গানের সুরে খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খোলা বাসে করে তারা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ট্রেনিং সেন্টারে যান। পুরো পথে সমর্থকেরা পতাকা, গান ও স্লোগানে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানান।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে পুরো দল একসঙ্গে ভ্রমণ করেনি। মোট ১৬ জন ফুটবলার আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসিসহ আরও ১০ জন খেলোয়াড় নিজ নিজ ক্লাব বা ব্যক্তিগত গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপেই থেকে যান।
যদিও দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজয় উদযাপনের আয়োজন ছিল না, তবুও অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপে দলের লড়াই এবং টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার সাফল্যকে তারা সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ উপলক্ষে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে জানায়, মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় এবং দলের প্রতিটি সদস্য সমর্থকদের অবিচল সমর্থন অনুভব করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও সমর্থকদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, যা যেকোনো ফলাফলের ঊর্ধ্বে।
দেশে ফেরা ১৬ ফুটবলার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, গনসালো মন্টিয়েল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বার্কো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমেওনে ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেস।
কসমিক ডেস্ক