ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ৩৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ এবং আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা পৃথক বিবৃতিতে এ সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩৫০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশটির জাতীয় সংসদের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫,১১৯ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া ১৬,৭৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬,৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এর ফলে অন্তত ১৭,৯০৭ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দিতে ইতোমধ্যে ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে জনবল কাজ করছে। বর্তমানে ২,২৭৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী, প্রায় ৩১ হাজার জরুরি সাড়াদানকারী এবং আরও ৩১ হাজারের বেশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দুর্গত এলাকায় দিনরাত কাজ করছেন। সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি খাদ্যসামগ্রী এবং ৩ কোটি ২০ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, আইএমএফের জরুরি তহবিল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং জরুরি জনসেবা পুনরায় চালু করতে ব্যয় করা হবে। সংকটের সময়ে সহযোগিতার জন্য তিনি আইএমএফ এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
কসমিক ডেস্ক