ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় কঠিন সমীকরণে পাকিস্তান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় কঠিন সমীকরণে পাকিস্তান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 17, 2026 ইং
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় কঠিন সমীকরণে পাকিস্তান ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জটিল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমীকরণের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসলামাবাদে উদ্বেগ বেড়েছে যে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ এবং সৌদি আরবকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা ধরে রাখতে চায় পাকিস্তান, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে প্রয়োজন হলে রিয়াদের পাশে দাঁড়ানোর চাপও রয়েছে।

পাকিস্তান সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়েছে। গত বছর স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বর্তমানে সৌদি আরবে পাকিস্তানের হাজারো সেনাসদস্য এবং যুদ্ধবিমান ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জন্য নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে।

পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সৌদি আরবের ওপর হামলাকে ইসলামাবাদ নিজের নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের ভাষায়, এটি পাকিস্তানের জন্য একটি 'রেড লাইন'

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, উত্তেজনা এত দ্রুত বাড়বে—এমনটি পাকিস্তান আগে থেকে ধারণা করতে পারেনি। বিশেষ করে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হলে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে সামরিক সহযোগিতার প্রশ্নেও সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল গুলাম মোস্তফা বলেন, ইসলামাবাদ বর্তমানে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অবস্থানের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আলির মতে, ইরানে নীতিনির্ধারণে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বাড়ছে এবং পাকিস্তানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের নির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর বিলম্বিত হলেও পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি সর্বশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরা

ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরা