চীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটক ব্যক্তি মায়ানমারবিষয়ক একটি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মিন জিন নামের ওই ব্যক্তিকে “ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে” এবং তার বিরুদ্ধে “চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার সন্দেহ” রয়েছে।
আটক ব্যক্তি ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মায়ানমার (ISP-Myanmar)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা মায়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংঘাত, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে গবেষণা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় মায়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে চীনের প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কেও বিশ্লেষণ রয়েছে।
২০২১ সালে মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে চীন বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। কখনো তারা মায়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে, আবার কখনো সীমান্তবর্তী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করেছে—যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র অনুযায়ী, মিন জিনকে ৩ জুন চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। ওই অঞ্চলটি মায়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটি ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একটি সূত্র জানায়, তিনি একটি বৈঠকে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তার কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
চীন জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে গুয়াংঝুতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটকে অবহিত করেছে। অন্যদিকে আটক ব্যক্তির পরিবার ও সহকর্মীরা কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে জানা গেছে এবং তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আস্থার ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গবেষণা, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কার্যক্রম এবং সীমান্তবর্তী ভূরাজনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীনের ভূমিকা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মার্কিন গবেষকের আটক হওয়া কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আটক নয়, বরং চীন-মার্কিন সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক