জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে বলা হয়েছে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি এবং সুযোগের অপেক্ষার পর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এই হত্যার পেছনে মূল কারণ ছিল প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা। জোবায়েদ, বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং মাহির রহমানকে ঘিরে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও পরে বিচ্ছেদ ঘটে এবং জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে আবার মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় শুরু হলে জোবায়েদের কাছে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়।
তদন্তে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। ঘটনার কয়েক দিন আগে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে। ঘটনার দিন জোবায়েদ নিজের অবস্থান বর্ষাকে জানালে সেই তথ্য ব্যবহার করে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা আক্রমণ চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ফলে গুরুতর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগপত্রে মাহির রহমানকে মূল হামলাকারী, বর্ষাকে পরিকল্পনাকারী এবং তাদের সহযোগী হিসেবে আরেকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ডেটা এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার আগে থেকেই জোবায়েদকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যোগাযোগ বজায় রেখে তাকে পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞ রাখা হয়।
এই ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
কসমিক ডেস্ক