বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কয়েকটি শর্তের কারণেই চুক্তি ভেস্তে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল মেক্সিকো। সে লক্ষ্যেই তারা প্রথমে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতাও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ক্রীড়া সাংবাদিক কার্লোস পন্সে দে লিওন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মেক্সিকো পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করলেও, তার আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার পরিকল্পনাই ছিল অগ্রাধিকার।
মার্কার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ম্যাচ আয়োজনের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক দাবি করে। এছাড়া অর্থপ্রদানের একটি অংশ নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আলাদাভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ) নাকি নির্ধারিত পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত ছিল। তবে অর্থ বণ্টনের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তারা অনিচ্ছুক ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে মার্কার প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলোর স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনের শেষাংশে এফবিআই তদন্তের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, আনুষ্ঠানিক নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। তাই এ সংক্রান্ত দাবি বর্তমানে অযাচাইকৃত এবং স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাকে সাধারণত দলগুলোর প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক সময় এমন ম্যাচ আয়োজন শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় না। আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো সম্ভাব্য ম্যাচটিও সেই তালিকায় যুক্ত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক