দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রতিটি জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যার কারণে আমন ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত নতুন বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে ধানের চারা বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার খড়, ঘাস ও প্রয়োজনীয় পশুখাদ্য সরবরাহ করবে। পাশাপাশি খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে
কসমিক ডেস্ক