যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে–এর প্রবীণ নেত্রী অ্যান উইডিকম্ব নিহত হয়েছেন। নিজ বাড়ি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৮ বছর বয়সী উইডিকম্ব দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের নিউটন অ্যাবট এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর উইডিকম্বের বাড়ি থেকে জরুরি ফোন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে বাড়িটিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।
অ্যান উইডিকম্বের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে একজন সাহসী ব্রেক্সিটপন্থি রাজনীতিক এবং দক্ষ বক্তা হিসেবে স্মরণ করেছেন।
উইডিকম্ব ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর–এর কনজারভেটিভ সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি নাইজেল ফারাজ–এর নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দলে অভিবাসন ও বিচারবিষয়ক মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি সামাজিক রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। গর্ভপাত ও সমকামীদের সমানাধিকারের বিরোধিতা এবং কিছু বিতর্কিত নীতির প্রতি সমর্থনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিলেন। রাজনীতির বাইরে ২০১০ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং–এ অংশ নিয়েও ব্যাপক পরিচিতি পান।
এই হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাজ্যে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত এক দশকে দেশটিতে একাধিক রাজনীতিক হত্যার শিকার হয়েছেন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক