পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে তার দপ্তর। হলফনামায় উল্লেখিত এক হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি, ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ৪২ কোটি টাকায় পারিবারিক রাইস মিল বিক্রির তথ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সালের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে মীর শাহে আলম পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার, পরিচালনা এবং সার্বিক মালিকানাসহ সব দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব ব্যবসা পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।
প্রতিমন্ত্রীর হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, রাইস মিল বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার গণেশপুর গ্রামের রাইস মিল ব্যবসায়ী রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটি কিনেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি ৪২ কোটি টাকায় মিলটি ক্রয় করেন এবং মালামালসহ প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব বুঝে নেন।
দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।
সম্পদ ও ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো যাচাই করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পদ, ব্যবসা ও মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জনমনে আগ্রহ থাকায় এ ধরনের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ব্যবসাগুলো বর্তমানে পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক