গাজা উপত্যকায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক প্রশাসনের কাছে সরকারি দায়িত্ব হস্তান্তরের পথ সুগম হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে হামাসের প্রশাসনিক অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর এবং ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফাতাহর সঙ্গে সংঘর্ষের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাস সেখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিল। প্রায় দুই দশক ধরে গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল।
হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা জানান, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর কাছে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ হয়।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, সংগঠনটি এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলে তারা আর গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো গাজায় চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখার অজুহাত দূর করা এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য পথ তৈরি করা। তিনি আরও বলেন, নতুন কমিটির সফল কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হামাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গঠিত টেকনোক্র্যাট কমিটি এনসিএজি ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদ আলি শাথের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে এই কমিটি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং কয়েক মাস ধরে গাজার বাইরে অবস্থান করছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি এখনো স্থবির রয়েছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ এ অচলাবস্থার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করেছে। একই সময়ে গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজা উপত্যকার বড় একটি অংশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং সাম্প্রতিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের এই ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কত দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে, তা আগামী সময়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
কসমিক ডেস্ক