চ্যাটজিপিটি-জেমিনির মতো এআই চ্যাটবট নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতির ভাবনায় যুক্তরাজ্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চ্যাটজিপিটি-জেমিনির মতো এআই চ্যাটবট নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতির ভাবনায় যুক্তরাজ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 6, 2026 ইং
চ্যাটজিপিটি-জেমিনির মতো এআই চ্যাটবট নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতির ভাবনায় যুক্তরাজ্য ছবির ক্যাপশন:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। তথ্য অনুসন্ধান, লেখালেখি, পরিকল্পনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি এখন অনেক মানুষ আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এসব প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো সাধারণ উদ্দেশ্যে তৈরি এআই চ্যাটবটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে ভাবছে যুক্তরাজ্য।

রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চায়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শেলডন মিলস বলেন, বর্তমানে বড় ভাষা মডেলভিত্তিক (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) এআই চ্যাটবটগুলো কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নেই। তবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে আলাদা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে কি না, সেটি মূল্যায়ন করা জরুরি।

এফসিএর এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ আর্থিক পরামর্শের জন্য চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনির মতো এআই টুলের ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ জানেন না যে, এসব এআই থেকে পাওয়া পরামর্শ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পরামর্শের মতো আইনি সুরক্ষা বা ভোক্তা সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কোনো না কোনোভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে এআইকে তাদের কার্যক্রমের অংশ করেছে। শুরুতে এআই প্রযুক্তি মূলত অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাজ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে গ্রাহকসেবা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান এবং অন্যান্য আর্থিক সেবাতেও এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে এফসিএ সতর্ক করে বলেছে, আর্থিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যদি একই ধরনের এআই মডেল, ক্লাউড অবকাঠামো বা প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা বড় ধরনের সিস্টেম বিভ্রাট একযোগে বহু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এফসিএর চেয়ারম্যান অ্যাশলি অ্যালডার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকেও সময়োপযোগীভাবে হালনাগাদ করতে হতে পারে। তিনি মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আর্থিক সেবাখাতকে আরও দক্ষ ও সহজলভ্য করে তুলতে পারে। তবে এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, তথ্যের নির্ভুলতা এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৮০ বছর পর থাইল্যান্ডে মার্কিন পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার

৮০ বছর পর থাইল্যান্ডে মার্কিন পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার