বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেল। বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ সিনেমাটি দেখে নিজের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মানবিক গল্প, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং ক্ষমতার রাজনীতির সূক্ষ্ম উপস্থাপনা তাকে মুগ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (২৮ জুন) চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিনেমা–ভিত্তিক রিভিউ প্ল্যাটফর্ম লেটারবক্স-এ অনুরাগ কাশ্যপের দেওয়া মন্তব্যের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন।
পোস্টে নির্মাতা লেখেন, “অনুরাগ কাশ্যপ ‘দেলুপি’ দেখে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন। আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না।”
লেটারবক্সে দেওয়া সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রশংসাসূচক মন্তব্যে অনুরাগ কাশ্যপ লেখেন, “ক্ষমতার রাজনীতি যে কত ক্ষুদ্র স্তরেও কাজ করে, সেটাই দেখা যায় ‘দেলুপি’ গ্রামের গল্পে। শাসনব্যবস্থা বদলের পর বন্যায় দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছোট্ট এই গ্রাম। গল্পটা এতটাই মানবিক যে মনে হয় যেন আমাদের নিজেরই পাশের গ্রামের কথা দেখছি। ভীষণ ভালো লেগেছে।” মন্তব্যের সঙ্গে তিনি ভালোবাসার একটি ইমোজিও যুক্ত করেন।
২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘দেলুপি’ নির্মিত হয়েছে খুলনা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলের বাস্তব জীবন ও অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। চলচ্চিত্রটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীভাঙন, স্থানীয় রাজনীতির ওপর জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং প্রান্তিক মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমার কাহিনিতে দেখা যায়, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের সরকারপ্রধান ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় একটি গ্রাম দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন, জীবিকা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এগিয়ে যায় গল্প।
এতে যাত্রাশিল্পী পরিবারের ছেলে পার্থ চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস। সংকটময় পরিস্থিতিতে পাশের গ্রামের নূপুর চরিত্রে অভিনয় করা অদিতি রায়-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক গল্পে মানবিক ও আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে।
দেশে মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসে ‘দেলুপি’। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রদর্শনী তালিকায় স্থান পায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুরাগ কাশ্যপের এই প্রশংসা ‘দেলুপি’র আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক