ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সংঘটিত ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব পরাঘাতের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন এবং আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা পথে রয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেকের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাবে উদ্ধারকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।
কারাবায়েদা এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সময়ে বহু পরিবার এখনও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং উদ্ধারকেন্দ্রে ছুটে বেড়াচ্ছে। আফটারশকের আতঙ্কে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন, কারণ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোতে ফিরে যেতে তারা ভয় পাচ্ছেন।
জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কর্তৃপক্ষ লা গুয়াইরা এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। সরকার বহু মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বড় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক