মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে ঘিরে দ্বিমুখী অবস্থান প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তির আশাও ব্যক্ত করেছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের তেল অবকাঠামো দখলের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না—আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।
তবে সামরিক পদক্ষেপের এই ইঙ্গিতের পাশাপাশি ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি জানান, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প খার্গ দ্বীপ দখলের সমালোচনার জবাবে বলেন, ইরানের তেল দখল করা তার কাছে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, খার্গ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব শক্তিশালী নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহজেই এটি দখল করতে পারে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বৈত বার্তা—একদিকে সামরিক হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা—মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। সামরিক পদক্ষেপ নাকি কূটনৈতিক সমাধান—কোন পথে এগোবে ওয়াশিংটন, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক