পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ক্রেমলিন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ক্রেমলিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ক্রেমলিন ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পারমাণবিক অস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির দাবি, পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো এমন একটি বাস্তবতা, যা বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে রাখছে।

বুধবার মস্কোতে আয়োজিত এক পররাষ্ট্রনীতি ফোরামে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।

পেসকভের ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে, যা সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে এমন উন্নত অস্ত্রও তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমপর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর কার্যকর সীমাবদ্ধতার যুগও আপাতত সমাপ্ত হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তিগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কোনো সক্রিয় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কার্যকর অবস্থায় নেই।

২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশ সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি পেত। চুক্তিটি দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও এখন পর্যন্ত নিউ স্টার্ট নবায়ন কিংবা এর বিকল্প কোনো নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। এর জেরে ইউরোপীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে মস্কো বরাবরই দাবি করে আসছে যে, নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বেইজিং এ ধরনের প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি। রাশিয়ার অবস্থান হলো, যদি ভবিষ্যতের কোনো চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও সেই কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, অস্ত্র আধুনিকীকরণ এবং পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপ, আস্থা বৃদ্ধি এবং কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এ-১০ ও এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

এ-১০ ও এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের