বিদ্যালয় আছে, নেই শিক্ষা: শিক্ষক সংকটে ভোলার চরাঞ্চলের শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিদ্যালয় আছে, নেই শিক্ষা: শিক্ষক সংকটে ভোলার চরাঞ্চলের শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
বিদ্যালয় আছে, নেই শিক্ষা: শিক্ষক সংকটে ভোলার চরাঞ্চলের শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছবির ক্যাপশন:

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র উদ্বেগজনক। সরকারি খাতায় বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর হিসাব থাকলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না। শিক্ষক সংকট, দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে পড়ছে শত শত শিশু।

তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনার মাঝের নাগর পাটোয়ারীর চরে অবস্থিত পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ছয় মাসে বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলেও অধিকাংশ সময় শিক্ষককে পাওয়া যায় না।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পার হলেও পাঠদান শুরু হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন শিশুকে ডেকে এনে উপস্থিত দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তারা হাতে গোনা কয়েকদিন ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, চরাঞ্চলের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই একই সমস্যায় জর্জরিত। কোথাও শিক্ষক নেই, কোথাও আবার শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত হন না। অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালাতে স্থানীয় কলেজপড়ুয়া বা অননুমোদিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও একই রকম। সেখানে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও এটি শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চর লাদেনের মোহাম্মদ ভেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষক ঘাটতির কারণে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। একইভাবে চর মোজাম্মেল ও পশ্চিম রামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল ও চর জহির উদ্দিন এলাকার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত ৫৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন শিক্ষক। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অবকাঠামোগত সমস্যাও শিক্ষা কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে এখনো টিনের ঘরে পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও স্থায়ী ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

দৌলতখান উপজেলার চরাঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের মধ্যেও নিয়মিত উপস্থিতির ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ঘাটতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে চরাঞ্চলের শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের অনুপস্থিতি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

চরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রবীন্দ্রনাথের দর্শন নিয়ে গভীর আলোচনা, অংশ নিলেন বিশিষ্টজনরা

রবীন্দ্রনাথের দর্শন নিয়ে গভীর আলোচনা, অংশ নিলেন বিশিষ্টজনরা