মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে নারী-শিশুসহ ৮০ যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ বিকল হয়ে পড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে নৌপুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে অন্য লঞ্চে স্থানান্তর করে।
মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীর ষোলআনি এলাকায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৮০ জন যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ বিকল হয়ে পড়ার ঘটনায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর দ্রুত উদ্যোগ এবং নৌপুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকেলে মেঘনা নদী থেকে সেলিম হোসেন নামে এক যাত্রী ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। তিনি জানান, তারা ‘মকবুল-২’ নামের একটি ছোট লঞ্চে চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। পথিমধ্যে মুন্সীগঞ্জের ষোলআনি এলাকায় লঞ্চটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং সেটি নদীর মাঝখানে ভেসে থাকে।
এ সময় লঞ্চে থাকা যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে পড়ে যান। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তারা জাতীয় জরুরি সেবার সহায়তা চান।
৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নদীতে অবস্থানরত যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রথমে আশপাশের চলাচলকারী নৌযানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ‘এমডি আল-মাহবুব’ নামের একটি লঞ্চ থামিয়ে বিকল লঞ্চের যাত্রীদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল এবং অনেকেই অস্বস্তি অনুভব করেন।
নৌপুলিশ জানিয়েছে, নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে থাকে। তবে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় হলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদী এই রুটে ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে পরিচিত। চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে। ফলে যেকোনো ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা বা দুর্ঘটনা হলে তা দ্রুত সমাধান না করলে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করায় নৌপুলিশ ও ৯৯৯-এর দ্রুত পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, নদীপথে যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, বিশেষ করে পুরোনো লঞ্চ ও নৌযানগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার পর বিকল লঞ্চটি নিরাপদে টেনে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, লঞ্চটির যান্ত্রিক ত্রুটি নির্ণয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও নদীপথে যাত্রী নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের কারণে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক