গোলের ‘সেঞ্চুরি’তে ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিশ্বকাপ ২০২৬ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গোলের ‘সেঞ্চুরি’তে ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিশ্বকাপ ২০২৬

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 21, 2026 ইং
গোলের ‘সেঞ্চুরি’তে ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিশ্বকাপ ২০২৬ ছবির ক্যাপশন:

২০২৬ বিশ্বকাপে চলছে গোলের অবিশ্বাস্য বন্যা। প্রতিদিনই একের পর এক ম্যাচে নেট কাঁপছে, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ এখন আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় শনিবার নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ে সুইডেনকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে টুর্নামেন্টের শততম গোল আসে। ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো সেই ঐতিহাসিক গোলটি করেন। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বকাপ ২০২৬।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত দ্রুত ১০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর ঘটনা এর আগে দেখা গিয়েছিল ১৯৫৮ সালের আসরে। সেই বছরও ৩৩ ম্যাচেই শততম গোল হয়েছিল। তবে সবচেয়ে দ্রুত ১০০ গোলের রেকর্ড গড়া হয়েছিল ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই শততম গোল সম্পন্ন হয়।

বর্তমান বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ৩.০২। এই গড় যদি বজায় থাকে, তাহলে ১০৪ ম্যাচের পুরো টুর্নামেন্ট শেষে গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ গোলের আসর হয়ে উঠতে পারে।

গোলের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ অন্যতম আলোচনায় রয়েছে। অনেক গোলরক্ষকই বলের গতি ও ট্র্যাজেক্টরি সামলাতে সমস্যায় পড়ছেন। ফলে দূরপাল্লার শট থেকে গোলের সংখ্যা বেড়েছে।

এছাড়া ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাটও গোল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণে বড় ব্যবধানের ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ ব্যবধানে হার কিংবা কানাডার ৬-০ ব্যবধানে কাতারকে পরাজিত করার মতো ফলাফল তারই উদাহরণ।

আবহাওয়াও এই বিশ্বকাপে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের কারণে ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি নেওয়া হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বাড়ছে এবং ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগে ভুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশই এসেছে ৭৬ মিনিটের পর।

তারকা খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত ফর্মও এই গোল উৎসবকে আরও রঙিন করেছে। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনের গোল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক মহামঞ্চে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই গতি বজায় থাকে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপ শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং গোলের সংখ্যার দিক থেকেও ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় আসর হিসেবে জায়গা করে নেবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গুচ্ছভুক্ত হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, ফের আবেদন সুযোগ

গুচ্ছভুক্ত হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, ফের আবেদন সুযোগ