হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় গায়িকাকে ৭৪ বেত্রাঘাত, দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় গায়িকাকে ৭৪ বেত্রাঘাত, দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 21, 2026 ইং
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় গায়িকাকে ৭৪ বেত্রাঘাত, দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা ছবির ক্যাপশন:

ইরানে হিজাব ছাড়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের ঘটনায় তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন। দেশটির আদালত তাকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সংগীতচর্চা থেকে নিষিদ্ধ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যখন ২৯ বছর বয়সী এই গায়িকা ইউটিউব লাইভে “আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান” শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। পারফরম্যান্সের সময় তিনি হিজাব পরেননি, যা ইরানের সামাজিক ও আইনি কাঠামোর দৃষ্টিতে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে তার এই পারফরম্যান্সকে শিল্পীসত্তার প্রকাশ হিসেবে দেখলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে “অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট” হিসেবে আখ্যা দেয়।

এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি এবং তার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সহশিল্পীকে আটক করা হয়। পরে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি কোম প্রদেশের আদালত এই রায় ঘোষণা করে।

আদালতের রায়ে পারাস্তু আহমাদি ও তার দলের আরও আটজন সদস্যকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই রায় প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংস্কৃতিকর্মীরা এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এটি শুধু একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, বরং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা দমনের একটি বড় উদাহরণ।

ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে “অতিরিক্ত কঠোর” এবং “অমানবিক” বলে অভিহিত করেন।

আইনজীবীদের একটি অংশও রায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ‘দাদবান’-এর আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশনকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটিকে “অশ্লীল কনটেন্ট” হিসেবে ব্যাখ্যা করে শাস্তি দেওয়া আইনের অপব্যবহার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, শুধুমাত্র গান পরিবেশন এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত থাকার কারণে ৭৪ বেত্রাঘাতের মতো শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং উদ্বেগজনক।

এই ঘটনার পর ইরানে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সরকারের কঠোর অবস্থান তরুণ শিল্পীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং সৃজনশীল পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: মির্জা ফখরুল

জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: মির্জা ফখরুল