প্রতারণার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান জানিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, ব্যবসায় বিনিয়োগের আশ্বাস, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির পশু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে প্রতারণা করা। এ ঘটনায় গত শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুলশান-১ এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাসার ভেতরে একটি সুড়ঙ্গসদৃশ গোপন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। প্রায় ১৮ ঘণ্টার অভিযানের পর তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনার পরপরই কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে নায়িকা ববির সম্পর্ক রয়েছে, এমনকি কেউ কেউ তাকে “কথিত স্ত্রী” বলেও উল্লেখ করেন। বিষয়টি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এরই প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি লিখিত বিবৃতি দেন ইয়ামিন হক ববি। তিনি স্পষ্টভাবে এসব তথ্যকে “ভুয়া ও ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ববি তার পোস্টে লেখেন, তাকে জড়িয়ে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও চটকদার সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্মানহানিকর।
তিনি আরও বলেন, এসব সংবাদ মূলত ভিউ বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, গণমাধ্যমের প্রতি তার আস্থা থাকলেও যারা ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ববি আরও পরিষ্কার করে বলেন, তার ব্যক্তিগত জীবন বা বিয়ে সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে তা তিনি নিজেই প্রকাশ করবেন, অন্য কেউ তা অনুমান বা প্রচার করার অধিকার রাখে না।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গাড়ি কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার এড়াতে অবস্থান পরিবর্তন করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে ববি স্পষ্টভাবে এসব গুজবকে প্রত্যাখ্যান করায় বিষয়টি আপাতত তার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক