মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করলেও হাইতির বিপক্ষে দারুণ জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেলেসাওরা। ম্যাথিয়াস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের এক গোলেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোল না হলেও পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল আনচেলত্তির দলেরই।
এই জয়ের পরপরই সামনে এসেছে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান, যা ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে ফাইনালের স্বপ্ন জাগিয়েছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে অতীতে যে চারটি আসরে প্রথমার্ধে ব্রাজিল ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল, সেই প্রতিটি আসরেই তারা ফাইনালে পৌঁছেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে দুইবার এমন ঘটনা ঘটেছিল, ১৯৯৮ সালে একবার এবং ২০০২ সালে একবার। এর মধ্যে ২০০২ সালে ব্রাজিল জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল। তবে ইতিহাস সবসময় একপথে যায়নি। ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের কাছে এবং ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয় ব্রাজিল।
এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—এবার কি আবারও ফাইনালের পথে ব্রাজিল? যদিও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতের সংখ্যা কখনোই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে শিরোপা খরা চলছে সেলেসাওদের। শেষবার তারা বিশ্বকাপ জিতেছিল দুই যুগ আগে। এরপর একাধিক বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত শিরোপা অধরা থেকে গেছে।
২০১৪ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিল ছিল অন্যতম ফেবারিট। কিন্তু সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ভয়াবহ পরাজয় পুরো ফুটবল বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। এরপর ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে এবং সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে আবারও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় দলটি।
এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ব্রাজিলের বর্তমান দল নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা এখনো চ্যালেঞ্জিং। হাইতির বিপক্ষে বড় জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল পরীক্ষা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিসংখ্যান হয়তো সমর্থকদের আশার জ্বালানি যোগাচ্ছে, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে। তবুও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য নতুন করে স্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক—কারণ ইতিহাস বলে, এই দলটা কখনোই পুরোপুরি হিসাবের বাইরে থাকে না।
কসমিক ডেস্ক