সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে এই আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা আগের বছর ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, ১ সুইস ফ্রাঁ প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা হিসেবে ধরা হলে, এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৫ সাল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের দিক থেকে অন্যতম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত এখনও শীর্ষে রয়েছে, যেখানে দেশটির নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর আমানত ৩.২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। তবে আগের বছরের তুলনায় ভারতের আমানত কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইস ব্যাংক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে বাংলাদেশের অর্থ স্থানান্তরের প্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, হংকং এবং কিছু অফশোর ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব চ্যানেলের মাধ্যমেই বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে স্থানান্তর হয়।
সুইস ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর আবারও অর্থপাচার ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে অর্থ জমা বৃদ্ধির প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আরও গভীর তদন্ত ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ আলাদা করে দেখা জরুরি, যাতে সঠিক চিত্র পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
কসমিক ডেস্ক