প্রশান্ত মহাসাগরে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ করেছে এল সালভাদরের নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার দুটি পৃথক জাহাজে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে জানান, উদ্ধার হওয়া কোকেনের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই ঘটনাকে দেশটির জন্য “জাতীয় পর্যায়ের নতুন রেকর্ড” হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজে প্রায় সমপরিমাণ কোকেন ছিল এবং প্রতিটি জাহাজে তিনজন করে নাবিক অবস্থান করছিল। অভিযানের সময় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বড় পরিসরে এই চালান পরিবহন করছিল।
রাষ্ট্রপতি বুকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এখন এমন সব অঞ্চলে অভিযান চালানো হচ্ছে, যেখানে আগে এই কার্যক্রম প্রায় দণ্ডমুক্তভাবে চলত। তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত এল সালভাদর ১৩ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩২ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে কোকেন পাচারের জন্য সমুদ্রপথ সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের কড়া নজরদারির কারণে এসব চক্র বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছে।
এল সালভাদরের এই সফল অভিযান দেশটির মাদকবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বুকেলের সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে কিছুটা অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় পরিমাণ মাদক জব্দ হলেও বৈশ্বিক মাদক চক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ধরনের চক্র অত্যন্ত সংগঠিত এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করে দ্রুত তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে।
এ ঘটনার পর এল সালভাদরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদক পাচার রোধে সমুদ্রপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বৃদ্ধি করা হবে।
কসমিক ডেস্ক