১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে স্কটল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসছেন স্কটিশ ফুটবলপ্রেমীরা। সেই আনন্দ উদযাপনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহর পরিণত হয়েছে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রায় ১০ হাজার স্কটিশ সমর্থক বোস্টনে এসে ভিড় জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, সংগীত গেয়ে এবং র্যালি করে তারা শহরটিকে উৎসবমুখর করে তুলেছেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয় পাওয়ায় তাদের উচ্ছ্বাস যেন বাঁধ মানছে না।
এই উচ্ছ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শহরের পাব ও রেস্টুরেন্টগুলোতে। স্কটিশ সমর্থকদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন পাবগুলোতে ভিড় করছেন, আর সেখানে বিয়ারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
বোস্টনের একটি জনপ্রিয় পাবের জেনারেল ম্যানেজার বিলি ডিকেইন বলেন, তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের জন্য যে মজুত রাখা হয়েছিল, তা মাত্র চার দিনের মধ্যেই প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, স্কটল্যান্ড দল বোস্টনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে আসার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাবগুলোতে বিয়ারের পাশাপাশি ক্যানজাত পানীয়ের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি না দিলে সপ্তাহের শেষে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় বিয়ার উৎপাদনকারী একটি সংস্থা জানিয়েছে, সাধারণত ৪ জুলাইয়ের ছুটির সময় বোস্টনে বিয়ারের চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রি সেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। তাদের হিসাবে, মাত্র চার দিনে প্রায় ৪০০০ পিন্ট বিয়ার বিক্রি হয়েছে।
চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়ালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে স্কটল্যান্ড জিতলে চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কটিশ সমর্থকদের বড় অংশ বোস্টনের গরম আবহাওয়ায় বিয়ারকেই প্রধান পানীয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ফলে পাবগুলোতে প্রায় সবসময়ই ভিড় লেগে আছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হলেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপে পড়েছেন মালিকরা।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বোস্টনের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এখন স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ফুটবল উন্মাদনা, অন্যদিকে সরবরাহ সংকট—দুই মিলে শহরটি যেন এখন এক অনন্য অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খেলাধুলার বড় আসরগুলো শুধু মাঠে নয়, অর্থনীতি ও স্থানীয় ব্যবসাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বোস্টনের এই ঘটনা তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
স্কটল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফলাফল যেমনই হোক, আপাতত বোস্টনের পাবগুলো প্রস্তুত হচ্ছে আরও বড় ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য।
কসমিক ডেস্ক