ইংল্যান্ডকে রুখে দেওয়া আসারের সুবাদে ৩ কোটি টাকা পাবে তার ক্লাব The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইংল্যান্ডকে রুখে দেওয়া আসারের সুবাদে ৩ কোটি টাকা পাবে তার ক্লাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
ইংল্যান্ডকে রুখে দেওয়া আসারের সুবাদে ৩ কোটি টাকা পাবে তার ক্লাব ছবির ক্যাপশন:

ইংল্যান্ডের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শুধু দলকেই নয়, আর্থিকভাবে লাভবান করতে যাচ্ছে তার ক্লাবকেও। এবারের বিশ্বকাপে ঘানার স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ায় তার ক্লাব হার্টস অব ওকের ঘরে ঢুকতে যাচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ঘানার দলে থাকা একমাত্র দেশীয় লিগভিত্তিক খেলোয়াড় আসারে। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগির ইনজুরিতে পড়লে সুযোগ পান তিনি। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এবং বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।

তবে মাঠের এই নৈপুণ্যের বাইরেও আসারের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—অর্থনৈতিক লাভ। ফিফার ‘ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিন আগে থেকে শুরু করে জাতীয় দলের যাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাবগুলো দৈনিক প্রায় ১১ হাজার মার্কিন ডলার পেয়ে থাকে।

ফিফা এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণে ক্লাবগুলোর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। ২০২৩ সালে ২০২৩-২০২৬ মৌসুমের জন্য এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে, যা ক্লাবগুলোর জন্য বড় আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ঘানা যদি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, তবুও শুধু আসারের উপস্থিতির কারণেই হার্টস অব ওক পাবে অন্তত আড়াই লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ কোটি টাকার সমান। আর দলটি যদি নকআউট পর্বে এগিয়ে যায়, তাহলে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই অর্থ পাওয়ার জন্য খেলোয়াড়কে মাঠে নামা বাধ্যতামূলক নয়। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বেঞ্চে থাকলেও সংশ্লিষ্ট ক্লাব একই পরিমাণ অর্থ পায়। ফলে আসারের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তিই নিশ্চিত করেছে ক্লাবটির এই বিশাল আয়।

ঘানার ফুটবলের বাস্তবতায় এই অর্থের গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশটির প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড়দের মাসিক ন্যূনতম বেতন মাত্র ১ হাজার ৫০০ ঘানা সিডি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার সমান। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া এই অর্থ ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একসময় যার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল, সেই বেঞ্জামিন আসারে এখন ঘানার ফুটবলের অন্যতম ভরসার নাম। তিনি শুধু গোলপোস্টই রক্ষা করছেন না, বরং নিজের ক্লাবের আর্থিক ভবিষ্যতকেও শক্তিশালী করে তুলছেন।

বিশ্বকাপে তার প্রতিটি দিন তাই শুধু দেশের জন্য নয়, ক্লাবের জন্যও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বলা যায়, মাঠের নায়কোচিত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আর্থিক সফলতার গল্পও লিখছেন এই ঘানার গোলরক্ষক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ডা. সালাউদ্দিন বাবুর বিশেষ উদ্যোগ

মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ডা. সালাউদ্দিন বাবুর বিশেষ উদ্যোগ