২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন লিওনেল মেসি। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তিনি গড়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে প্রথম গোলের দেখা পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত শটে জিওভানি লো সেলসো আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। তার দুর্দান্ত গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা।
প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ধারাবাহিক আক্রমণের এক পর্যায়ে পেনাল্টি আদায় করে দলটি। স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল না করে লাউতারো মার্তিনেজ ব্যবধান ২-০ করেন। দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা, আর জর্ডানকে তখন পুরোপুরি চাপে দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এই গোলের পর কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় জর্ডানের ফুটবলাররা এবং কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলে। তবে অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন রক্ষণ তাদের আর সমতায় ফিরতে দেয়নি।
ম্যাচের শেষভাগে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটি ফ্রি-কিকে অসাধারণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর। মেসির এই গোলেই ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। দীর্ঘদিন ধরে থাকা আগের রেকর্ড ভেঙে এই নতুন কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার এই অর্জন বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটির আক্রমণভাগ যেমন কার্যকর ছিল, তেমনি রক্ষণভাগও ছিল বেশ সংগঠিত। প্রয়োজন অনুযায়ী স্কোয়াড রোটেশন করেও ইতিবাচক ফল পেয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয় নকআউট পর্বের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জর্ডান হার দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও পুরো আসরে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তারা সুযোগ তৈরি করেছে এবং গোল করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য দলটির বড় সম্পদ হয়ে থাকবে।
জর্ডানের বিপক্ষে জয়, গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য এবং লিওনেল মেসির বিশ্বরেকর্ড—সব মিলিয়ে দিনটি আর্জেন্টিনার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখন শেষ ষোলোতে একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিরোপা রক্ষার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাইবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কসমিক ডেস্ক