বাবার উত্তরাধিকার বনাম দলীয় শক্তি: পিরোজপুর-১ এ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাবার উত্তরাধিকার বনাম দলীয় শক্তি: পিরোজপুর-১ এ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 5, 2026 ইং
বাবার উত্তরাধিকার বনাম দলীয় শক্তি: পিরোজপুর-১ এ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছবির ক্যাপশন:
ad728

পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা চলছে। বিএনপি ও জামায়াত থেকে মাত্র দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি—এমনটাই ধারণা করছেন ভোটাররা।

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনটি নিজেদের করে নিতে চান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন। অপরদিকে, প্রয়াত জামায়াত নেতা ও দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আসন ধরে রাখতে মাঠে নেমেছেন তার ছেলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী।

পিরোজপুর-১ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। অন্য সময়গুলোতে আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত রয়েছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিয়ে মাত্র ২৮০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন সাঈদী। পরে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সহজেই জয় পান তিনি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের কাছে পরাজিত হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করায় পিরোজপুর-১ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আউয়াল। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেন শামীম সাঈদী, যিনি এবার জামায়াতের মনোনয়নে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোটগত রাজনীতির কারণে ২০০১ সালের পর থেকে এই আসনে বিএনপির নিজস্ব কোনো প্রার্থী দেখা যায়নি। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পিরোজপুরেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। এর ধারাবাহিকতায় এবার জামায়াত ও বিএনপি আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচনী মাঠে মাসুদ সাঈদী বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরে ভোটারদের আবেগী করার চেষ্টা করছেন। তিনি তিনটি উপজেলাই চষে বেড়াচ্ছেন, বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নাজিরপুর উপজেলাকে। এ উপজেলায় মোট ভোটারের প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বসবাস করেন, যার মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার। অতীত নির্বাচনগুলোতেও নাজিরপুরের ভোটাররা বিজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

মাসুদ সাঈদীর দাবি, তার বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালীন পিরোজপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের যে সমর্থন তার বাবার প্রতি ছিল, তা এবারের ভোটেও প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর হোসেনের বক্তব্য, বিএনপির সমর্থন ছাড়া দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিজয় সম্ভব হতো না। বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোটেই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন আলমগীর। তার মতে, পারিবারিক আবেগের কারণে ভোটাররা কাউকে ভোট দেবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। আগের কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি, কিন্তু এবার সুযোগ এসেছে। ফলে ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। নাজিরপুর উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী বলেও দাবি করেন তিনি।

পিরোজপুর-১ আসনের তিনটি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৮ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন ৪ হাজার ১৮৯ জন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দক্ষিণ স্পেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবার কাতালোনিয়ায় ট্রেন দুর

দক্ষিণ স্পেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবার কাতালোনিয়ায় ট্রেন দুর