নির্বাচনী প্রচার ঘিরে পাবনায় বিএনপি-জামায়াত হট্টগোল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনী প্রচার ঘিরে পাবনায় বিএনপি-জামায়াত হট্টগোল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
নির্বাচনী প্রচার ঘিরে পাবনায় বিএনপি-জামায়াত হট্টগোল ছবির ক্যাপশন:
ad728

পাবনা সদর উপজেলার বুদের হাট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও ভোট চাওয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ভোট চাইতে যান। এ সময় তারা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি কর্মীরা তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ান।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের এলাকা ছাড়তে বলেন। খবর পেয়ে জামায়াতের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে এলাকায় হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।

পাবনা-৫ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার পৌর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তাদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদের প্রচারে বাধা দেন এবং নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, নারী কর্মীদের রক্ষা করতে গেলে জামায়াতের দায়িত্বশীল কর্মী সুলতানকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচন সমন্বয়কারী এবং জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহবধূদের কাছ থেকে কৌশলে ভোটার আইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে ভোটের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জহুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে জামায়াতের কর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। পরে জামায়াত প্রার্থীসহ সশস্ত্র ক্যাডারদের ডেকে এনে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চানখাঁরপুলে ছয় হত্যার মামলার রায় ঘোষণা আজ

চানখাঁরপুলে ছয় হত্যার মামলার রায় ঘোষণা আজ