পঞ্চগড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ক্ষোভে যুবককে পিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পঞ্চগড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ক্ষোভে যুবককে পিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 22, 2026 ইং
পঞ্চগড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ক্ষোভে যুবককে পিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা ছবির ক্যাপশন:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বিলাসী এলাকায় ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মেলায় চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী এলাকার ঈদগাহ ও সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণে ঘটে। ভিডিওতে যাকে মারধর করতে দেখা গেছে, তার নাম বিটুল। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ঈদের জামাতে অংশ নিতে আসা মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের একটি অংশ তাকে ধাওয়া করছে। এ সময় কয়েকজন তাকে মারধরও করে। পরে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঈদগাহের পাশে বসা অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা তুলতে যান বিটুলসহ কয়েকজন যুবক। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একদিনের জন্য একটি মেলা বসে। প্রতি বছর এ মেলায় আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাঠ পরিষ্কারের খরচ বাবদ ২০ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হতো। তবে এবার সেই প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বেশি অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর মেলায় আগত দোকানিদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। অনেকের কাছ থেকে জোরপূর্বক সেই টাকা আদায়ও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাঁদার পরিমাণ অতিরিক্ত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কিছু মালামালও লুট করা হয়। এসব অভিযোগে মেলা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে জানা গেছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়, এই অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যয় নির্বাহের কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল বলে জানা গেছে।

রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে কনসার্ট আয়োজনের জন্য মেলায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি এতে আপত্তি জানান এবং এমন উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু তার নিষেধ উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা বলে চাঁদা তুলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয়রা একজনকে গণপিটুনি দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।

ঘটনার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ভিডিওতে বিটুলকে ধাওয়া ও মারধরের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিটুলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, ঈদ উপলক্ষে মেলায় বসা অস্থায়ী দোকান থেকে মাঠ পরিষ্কার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একটি পক্ষ দাবি করেছে, রামগঞ্জ বিলাসী ঈদগাহ মাঠের ব্যয় নির্বাহের জন্য মেলা থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছিল। তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন রামগঞ্জ বিলাসী ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, এই ঈদগাহ ময়দান উপজেলায় সুপরিচিত এবং প্রতি বছর এখানে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ঈদগাহ মাঠের ব্যয় বা ইমামের সম্মানী বাবদ কোনো বছরই মেলা থেকে চাঁদা আদায় করা হয়নি।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শুধু চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ নয়, বরং মেলা ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকটিও সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে গণপিটুনির ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক সচেতনতা, জনরোষ এবং বিচারবহির্ভূত শাস্তির প্রবণতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, সময়মতো প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। এখন বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স